১. আমরা ঘুমের মধ্যে কেনো নাক ডাকি?
ঘুমানোর সময় নিঃশ্বাসের সমস্যার কারণেই আমরা মূলত নাক ডাকি। ঘুমের মধ্যে প্রশ্বাস নেয়া ও নিঃশ্বাস ছাড়ায় বারবার ব্যাহত হলেই মানুষ নাক ডাকে। ঘনঘন এই প্রশ্বাস-নিঃশ্বাসের কাজে বাধা পেলে নাক থেকে বিভিন্ন ধরণের শব্দ বের হয়। আসলে শব্দটির উৎস নাক নয় বরং উৎস হল গলা। ঘুমের মধ্যে প্রশ্বাস-নিঃশ্বাসের সময় আমাদের গলার মধ্যে কিছু নরম টিস্যু ও কিছু পেশি সংকুচিত ও প্রসারিত হয়; সংকোচন ও প্রসারনের ফলে যদি গলার শ্বাসনালির পথ বারবার বন্ধ হয় ও খুলে তখন নাক থেকে শব্দ বের হয়।
২. মানুষ তার মস্তিষ্কের কতটুকু অংশ ব্যবহার করে?

- Save
চিত্রঃ মানব মস্তিষ্ক
source: www.livescience.com
মানুষ মস্তিষ্কের ৫-১০% ব্যবহার করে- এটা সম্পূর্ণ ভুল একটা তথ্য। মানুষ আসলে তার সমস্ত মস্তিষ্কই ব্যবহার করে। মস্তিষ্কের যেকোনো প্রসেস আসলে মস্তিষ্কের বিভিন্ন অংশের একযোগে ক্রিয়াকাণ্ডের ফসল। ১৯২০-১৯৩০ সালে সংগঠিত কিছু পরীক্ষা থেকে এই মিথ প্রচলিত হয় সবচেয়ে বেশি। কার্ল ল্যাসলে ইঁদুরের মস্তিষ্কের সেরিব্রাল কর্টেক্সের বিশাল একটা অংশ সরিয়ে ফেলার পরও দেখা গিয়েছিল ইঁদুরটির মস্তিষ্ক ও কর্মকাণ্ড স্বাভাবিকভাবেই চলছে। সেই থেকে ১০% মস্তিষ্ক ব্যবহার এর ধারণা প্রচলিত হয়েছিল। কিন্তু এই পরীক্ষা থেকে যেই পর্যবেক্ষণ অনুপস্থিত ছিল তা হলো ইঁদুর এর আচরণ অনুধাবন করার ক্ষমতা। আমরা যদি একই পরীক্ষা মানুষের জন্য করি তাহলে দেখা যাবে, মানুষের আচরণ, চিন্তা, ভাবনা, মনে রাখার ক্ষমতা ইত্যাদিতে অনেক পরিবর্তন এসেছে, যা ইঁদুর এর ক্ষেত্রে অনুধাবন করা সম্ভব ছিলনা। কিন্তু এখনকার যুগে ইমেজিং ও ম্যাপিং প্রযুক্তির সাহায্যে গবেষকরা বুঝতে পেরেছেন যে, আসলে মানুষ মস্তিষ্কের সম্পূর্ণ অংশই ব্যবহার করে।
৩. মানুষ জেগে থাকলে নাক ডাকে না কিন্তু কেনো শুধু ঘুমের মধ্যে নাক ডাকে?
ঘুমের মধ্যে আমাদের শ্বাস-প্রশ্বাসে অসুবিধা হয় কারণ তখন মুখের ভেতরের মাংসপেশি শিথিল হয়ে পড়ে বা মুখমণ্ডল অসুবিধাজনক অবস্থানে চলে যায়। কিন্তু জেগে থাকা অবস্থায় তা হয়না। জেগে থাকাকালীন মাংসপেশিগুলো সর্বদা সুসংবদ্ধ থেকে বায়ু চলাচল সচল রাখে। এতে যেহেতু শ্বাস-প্রশ্বাসে অসুবিধা হয়না, তাই আমরা জেগে থাকাকালীন নাকও ডাকিনা। বয়স বাড়ার সাথে সাথে মুখ ও গলার পেশিগুলো শিথিল ও দুর্বল হয়ে পড়ে। এতে পেশিগুলো আগের মতো শক্ত ও সঙ্গবদ্ধ থাকেনা ফলে বায়ু চলাচলে সমস্যা সৃষ্টি হয়। তাছাড়াও বয়স বাড়ার কারণে অনেকের শরীরে মেদ জমে যায়। সেটা পেটে জমার সাথে সাথে গলায় ও জমে। ফলে, গলায় বাতাস চলাচলের পথ সরু হয়ে আসে। একারণে বাচ্চাদের চেয়ে বড়রা বেশি নাক ডাকে।
৪. অনেকের গালে টোল পড়ে কেন?
মানুষের মুখমণ্ডলে থাকা জাইগোম্যাটিকাস (Zygomaticus major) মেজর নামক মাংসপেশির কারণে গালে টোল পড়ে। এ মাংসপেশির আকার স্বাভাবিকের তুলনায় ছোট হলে তা ত্বককে ভেতরের দিকে কিছুটা সংকুচিত করে যে খাজ তৈরি করে সেটাকেই আমরা টোল বলে থাকি।
৫. আপেল কাটার পর খোলা রেখে দিলে কিছুক্ষণ পর আপেলের গায়ে বাদামি রং দেখা যায় কেনো?

- Save
চিত্রঃ আপল কেটে রেখে দেওয়ার পূর্বের ও পরের অবস্থা
source: www.google.com
বাতাসে থাকে অক্সিজেন আর আপেলে রয়েছে আয়রন। এই আয়রন বাতাসের সংস্পর্শে এলে অক্সিজেন এর সঙ্গে বিক্রিয়া করে মরিচা সৃষ্টি করে। অর্থাৎ, আপেল কেঁটে খোলা রাখা হলে বাতাসের অক্সিজেন এর সাথে বিক্রিয়া করে তৈরি করে আয়রন অক্সাইড। এটা দেখতে মরিচার মতো। আপেলের কোষে থাকে যার নাম পলিফেনল অক্সিডেস (polyphenol oxidase- PPO), যা একপ্রকার এনজাইম এবং এই বিক্রিয়াটি ঘটতে সাহায্য করে।
৬. মশা কোন ধরনের রক্ত পছন্দ করে??

- Save
চিত্রঃ মশার রক্ত গ্রহণ
source: www.theconversation.com
মশা রক্ত গ্রহণের জন্য যখন কারো শরীরে বসে, তখন মশা তার পছন্দের রক্তের সন্ধানে থাকে। প্রায় ৮৫% মানুষ দেহ থেকে রাসায়নিক পদার্থ নিঃসরণ করে যার ফলে মশা বুঝতে পারে যে এটা কোন ধরনের blood group. মশা বেশির ভাগ সময়ই তাদের দেহ থেকে রক্ত গ্রহণ করে লুফে নেয় যারা এসব রাসায়নিক পদার্থ নিঃসরণ করে থাকে।
মশার পছন্দের তালিকায় প্রথমেই রয়েছে ‘O’ blood group. সেটা ‘O+’ (O positive) হোক অথবা ‘O-‘ (O negative) হোক। এরপরই মশার পছন্দের তালিকায় রয়েছে ‘B’ blood group এবং মশা খুব কম সময়ই ‘A’ blood group রক্ত গ্রহণ করে থাকে।
৭. পানি ছাড়া পৃথিবীর কোন জীব বাঁচতে পারে?

- Save
চিত্রঃ ক্যাঙ্গারু ইঁদুর
source: en.wikipedia.org
ক্যাঙ্গারু ইঁদুর নামক প্রাণী কখনই পানি পান করে না। বেঁচে থাকার জন্য তার যতটুকু পানি দরকার তা সে তার খাবার থেকেই সংগ্রহ করে। তাই অতিরিক্ত পানি পান তার জন্য অপ্রয়োজনীয়। সে তার পুরো জীবদ্দশায় কখনই পানি পান করে না।
৮. জীবদেহে পরমাণুর বিস্তার বেশি?
ভৌত গঠন অনুযায়ী মানবদেহকে দুইভাগে ভাগ করা যায় – ভর সংযুক্তি এবং পারমাণবিক সংযুক্তি। একজন পূর্ণবয়স্ক মানুষের দেহে ৬৭% পরমাণু রয়েছে। এরমধ্যে বেশিরভাগই হলো হাইড্রোজেন পরমাণু। এছাড়াও রয়েছে অক্সিজেন ও কার্বন পরমাণু। মানবদেহে পরমাণু সংখ্যা ধারণা করা হয় ৭×১০২৭.



