স্মার্টফোন সম্পর্কিত প্রচলিত কিছু ভুল ধারণা

1,666 Views

১) র‍্যাম যত বেশি স্মার্টফোনের পারফর্মেন্স তত ভাল :  স্মার্টফোনে র‍্যামের প্রধান কাজ হলো রোমে থাকা কোনো ফাইলকে খোলা এবং অনেকগুলো ফাইল ব্যবহারের সময় কোনো ফাইল ক্র্যাশ বা রিলোড না হয় সেদিকে লক্ষ রাখা। যে ফাইল স্টোরেজে যত বেশি জায়গা নেয় তা ব্যবহার করতে তত বেশি র‍্যাম প্রয়োজন। তাই র‍্যাম কম হলে বড় ফাইল গুলো ফোনে ইন্সটল করা যায় না বা করা গেলেও ব্যবহারের সময় ল্যাগের দেখা মিলবে। মূলত স্মার্টফোনের পারফর্মেন্স নির্ভর করে এর প্রসেসরের উপর, র‍্যামের উপর নয়। প্রসেসর যদি দুর্বল হয় তবে ১০/১২ জিবি র‍্যামের ফোনেও ল্যাগ বা ফ্রেমড্রপ দেখা দিবে। উদাহরণস্বরূপ বলা যায় ৪ জিবি র‍্যামের iPhone 11 pro max ১৬ জিবি র‍্যামের Samsung Galaxy s20 ultra এর চেয়ে শক্তিশালী, এমনকি পৃথিবীর সবচেয়ে শক্তিশালী স্মার্টফোন এটি। শুধু সাংখ্যিক মান বেশি হলেই হয় না বরং র‍্যাম উন্নত ও দ্রুতও হতে হয়। যেমন LPDDR5 বর্তমানে দ্রুততম র‍্যাম যা Samsung s20 series, Samsung galaxy flip, Oneplus 8 series ইত্যাদি ফোনে পাওয়া যায়।

C:\Users\hp\Downloads\Samsung-LPDDR5-DRAM_main_1.jpg
  • Save

Figure: LPDDR5
Source: news.samsung.com

২) রোমের সাথে পারফর্মেন্সের কোনো সম্পর্ক নেই :  এই ধারণাটি সম্পূর্ণ ভুল। স্মার্টফোনে বিভিন্ন ধরণের স্টোরেজ রয়েছে যেমন, eMMC ও UFS। eMMC খুব পুরোনো স্টোরেজ টাইপ। eMMC এর সর্বশেষ ভার্সনটি হচ্ছে eMMC 5.1। অন্যদিকে UFS বর্তমানে অধিক ব্যবহৃত হয়। UFS এর read speed ও write speed eMMC এর তুলনায় অনেক বেশি। আবার UFS এ read ও write একসাথে করা যায় কিন্তু eMMC এ তা করা যায় না। UFS এর ভার্সন গুলোর মধ্যে UFS 3.1 এর read speed ও write speed সবচেয়ে বেশি। তাই স্মার্টফোন কেনার ক্ষেত্রে কত জিবি স্টোরেজ সেদিকে লক্ষ্ রাখার পাশাপাশি স্টোরেজ টাইপের দিকেও নজরে রাখা উচিৎ।

C:\Users\hp\Downloads\index.jpg
  • Save

Figure: UFS 3.1
Source: androidauthority.com

৩) স্মার্টফোন ব্যবহারের ফলে ক্যান্সার হয় :  অনেকের ধারণা স্মার্টফোন ব্যবহারে ক্যান্সার বা টিউমার হয়। কিন্তু স্মার্টফোন থেকে যে রেডিয়েশন নির্গত হয় তা হল রেডিও ওয়েভ যা থেকে সাধারণত ক্যান্সার বা টিউমার হয় না। রেডিও ওয়েভ এর রেডিয়েশন ৪৫০ MHz থেকে ২৭০০ MHz এর মধ্যে। The U.S Department of Health and Human Services একটি গবেষণা করে যেখানে ১২ টি ইঁদুরের মধ্যে প্রতিদিন ৯০০ MHz করে টানা ২ বছর ওয়েভ চালনা করে। গবেষণা শেষে কেবল একটি ইঁদুরের টিউমার ধরা পড়ে। কিন্তু মোবাইল ফোন থেকে নির্গত রেডিয়েশন ৫০০ MHz থেকে ৬০০ MHz এর মধ্যে। তাছাড়া ইঁদুরের রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতা আমাদের চেয়ে অনেক কম। তাই স্মার্টফোন থেকে ক্যান্সার বা টিউমার হওয়ার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে।

C:\Users\hp\Downloads\cbsn-fusion-scientists-link-cellphone-radiation-to-cancer-in-rats-thumbnail-1702273-640x360.jpg
  • Save

Figure: Research on cellphone radiation with rats
Source: cbsnews.com

৪) ক্যমেরার মেগাপিক্সেল যত বেশি ক্যামেরা তত ভাল : স্মার্টফোনে ক্যামেরার মেগাপিক্সেল যত বেশি হয় ক্যামেরা তত বেশি বিস্তারিত ও নিখুত ছবি তুলতে পারে কিন্তু কোনো ছোট সেন্সরে যত বেশি মেগাপিক্সেল থাকে তা তত কম আলো ধারণ করতে পারে। অন্যদিকে ছোট সেন্সরে মেগাপিক্সেল যত কম থাকে ঐ ক্যামেরা তত বেশি আলো ধারণ করতে পারে যার ফলে সফটওয়্যার ছাড়া রাতে বা কম আলোয় কম মেগাপিক্সেলের ক্যামেরা দিয়ে বেশি ভাল ছবি তোলা যায়। DXO marks অনুযায়ী বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে ভাল ক্যামেরার স্মার্টফোন হচ্ছে Huawei P40 pro যাতে ৫০ মেগাপিক্সেলের ক্যামেরা রয়েছে যেখানে Samsung Galaxy S20 ultra তে ১০৮ মেগাপিক্সেল ক্যামেরা রয়েছে। এছাড়া বিশ্বের অন্যান্য নামকরা স্মার্টফোন ব্র্যান্ড যেমন iPhone 11 pro max ও Google pixel 4 XL এ এখনো ১২ মেগাপিক্সেলের ক্যামেরা ব্যবহার করা হয়।

C:\Users\hp\Downloads\IMG_20200608_211019.jpg
  • Save

Figure: Comparison between 64MP and 12MP
Source: Tech Burner

৫) IP Rating থাকা মানেই স্মার্টফোন ওয়াটারপ্রুফ : IP Rating থাকলে স্মার্টফোন কিছু শর্তাধীনে ওয়াটারপ্রুফ, সব ক্ষেত্রে নয়। যেমন IP 68 থাকলে ঐ স্মার্টফোন ধুলাবালি এবং আদর্শ অবস্থায় ১.৫ মিটার বিশুদ্ধ পানিতে টিকে থাকতে পারে, অন্যান্য ক্ষেত্রে স্মার্টফোনের ক্ষতিও হতে পারে। আবার IP 69 থাকলে ঐ স্মার্টফোন ধুলাবালি এবং সর্বোচ্চ চাপে ও তাপমাত্রায় যেকোনো কোণ থেকে ১.৫ মিটার দুরত্বে সর্বোচ্চ শক্তিতে বিচ্ছুরিত বিশুদ্ধ পানি ও বাষ্প থেকে সুরক্ষিত। 

৬) অতিরিক্ত চার্জের ফলে স্মার্টফোন ব্লাস্ট হয় কিংবা ব্যাটারি ফুলে যায় : বর্তমানে স্মার্টফোনের চার্জিং পোর্টে এক ধরণের সেন্সর থাকে যার ফলে স্মার্টফোন সম্পূর্ণ চার্জ হলে চার্জিং পোর্ট স্বয়ংক্রিয় ভাবে চার্জ নেওয়া বন্ধ করে দেয়। ফলে সারারাত স্মার্টফোন চার্জিং এ থাকলেও সমস্যা হয় না। যদি হয়েও থাকে তবে তা মূলত ব্যাটারির ত্রুটি বা ডিফেক্টের কারণে হয়ে থাকে। তবে একসময় ফোনের ব্যাটারি ব্লাস্ট বা ফুলে যাওয়ার ঘটনা অহরহ ঘটত কেননা তখন কোনো সেলফোনে এ সেন্সর ব্যবহার করা হত না।

৭) Type C চার্জিং পোর্ট থাকলেই স্মার্টফোনে দ্রুত চার্জ হয় : স্মার্টফোনের দ্রুত চার্জিং মূলত নির্ভর করে চার্জারের ক্ষমতা ও স্মার্টফোনের চার্জ নেওয়ার সক্ষমতার উপর। যদি কোনো ফোনে ফাস্ট চার্জিং সাপোর্ট না থাকে তবে তাকে কোনোভাবে দ্রুত চার্জ করা যাবে না। ধরা যাক Type-C পোর্ট সহ একটি ফোন ১০ ওয়াট চার্জিং সাপোর্ট করে, অন্যদিকে Micro USB সহ অন্য একটি ফোন ১৮ ওয়াট চার্জিং সাপোর্ট করে। ফোন দু’টি কে যথাক্রমে ১০ ওয়াট ও ১৮ ওয়াট চার্জার দিয়ে চার্জ দিলে ২য় ফোনটির চার্জ আগে সম্পূর্ণ হবে। এর কারণ হচ্ছে ২য় ফোনটি ১৮ ওয়াট চার্জ নিতে সক্ষম এবং তার চার্জারও ১৮ ওয়াট। মূলত Type-C চার্জিং পিনের উভয় দিক সমান যার ফলে পোর্টে উল্টো ঢুকানোর কোনো ভয় থাকে না কিংবা পোর্টে পিন ঢুকাতে কোনো ধরণের সমস্যার সম্মুখীন হতে হয় না। তাই এর ব্যবহার দিন দিন বেড়েই চলেছে।

4Xem USB Type C to Micro USB 2.0 M M Cable, Black, 6ft (4XUSBCMICROB6)
  • Save

Figure: Type-C and Micro USB
Source: connection.com

Leave a comment

Share via
Copy link