ইংরেজি লিসেনিং স্কিল বাড়াতে শুরুতে  মুভি দেখা বাদ দিন ! 

3,883 Views

এই লেখা শুধুমাত্র তাদের জন্য যারা একেবারে নতুন করে ইংরেজি লিসেনিং স্কিল বাড়াতে চান। এ পদ্ধতিতে ভালো করতে হলে আপনার কম পক্ষে  ৬ মাস লাগবে।তারপর আপনার স্কিল হবে পরিপক্ব। আপনি যদি মুভি দেখে সাবটাইটেল ছাড়া বুঝতে পারেন  তাহলে এ লেখা আপনার জন্য নয়।

 

যে কোন ভাষা শেখার প্রথম শর্ত হচ্ছে আপনাকে প্রথমে প্রচুর শুনতে হবে।  মানুষ জন্মের পর প্রায় ১/১.৫ বছর কোন কথাই বলে না। কিন্তু সে অনবরত  শুনতে থাকে তার চারপাশে মা-বাবা  পরিবারের সদস্য দের কথা। শুনতে শুনতে একসময় নিজে কথা বলা শুরু করে। এভাবে আমরা মাতৃভাষা অটোমেটিক রপ্ত করে ফেলি।  বিপত্তি ঘটে তখনই যখন আমরা মাতৃভাষা বাদে অন্য কোন ভাষা শিখতে যাই। বিদেশি ভাষা শেখার শুরুতেই আমরা যে ভুল করি তা হলো না শুনে সরাসরি পড়া এবং লেখাতে চলে যাওয়া।খেয়াল করুন আপনি কিন্তু মাতৃভাষা শেখার শুরুতে অনেক দিন শুধু শুনেছেন।  তারপর বলেছেন।  তারপর পড়েছেন। তারপর লিখেছেন।  তাহলে যে কোন ভাষা শেখার ধাপ গুলো আমরা এভাবে সাজাতে পারি।  শুনা->বলা ->পড়া-> লিখা। খেয়াল করুন প্রথম ধাপে আপনাকে প্রচুর শুনতে হবে। কিন্তু আমরা ইংরেজি শিখি ঠিক উল্টোভাবে। সেজন্যই  ১৬ বছরের শিক্ষা জীবন শেষে আমরা শুধুই ইংরেজি গ্রামার পারি।  শুনতে বা  বলতে বললেই ঘাম ছুটে যায় আমাদের।

 

কিভাবে লিসেনিং শুরু করবেন?

ইংরেজি লিসেনিং স্কিল বাড়ানোর জন্য আমরা বহুল প্রচলিত একটি নিয়ম মানি আর তা হলো প্রথমেই প্রচুর মুভি দেখতে হবে।  যদিও অনেকে মুভি দেখে দেখে লিসেনিং স্কিল বাড়াতে পারেন।  কিন্তু আমি মনে করি সবার ক্ষেত্রে এটা কাজ নাও করতে পারে।

 

কেন শুরুতেই মুভি দেখবেন না?

ধরা যাক একজন বিদেশি বাংলা শিখতে চাচ্ছে।এখন আপনি তার সাথে শুরুতেই চট্রগ্রাম, সিলেট বা বরিশালের আঞ্চলিক ভাষায় কথা বলা শুরু করলেন।  তারপর কি ঘটবে?  সেটা এতক্ষণে আপনি বুঝে গেছেন।  আপনি এখন ভাবছেন কিন্তু মুভিতে তো ফরমাল বা প্রমিত ভাষায় কথা বলে।  উত্তর হচ্ছে সব মুভির ক্ষেত্রে তা সত্য নয়।  যেমনটা আমরা বাংলাতেও দেখি। আর একটি ব্যাপার হচ্ছে মুভিতে ক্যাজুয়াল স্টাইলে  কথা বলে।  যা ফরমাল স্টাইল থেকে কিছুটা কঠিন। কিন্তু আমরা তো দেখেছি মাতৃভাষা শেখার শুরুতে আমরা ক্যাজুয়াল স্টাইল আগে শিখেছি!  এর উত্তর হচ্ছে আমরা যখন মাতৃভাষা শিখেছি তখন আমরা ২৪ ঘন্টা চারপাশ থেকে  শুনার উপর ছিলাম।  তাই আমরা সহজে রপ্ত করতে পেরেছি । আপনি  যদি ইংরেজি মাতৃভাষা এমন কোন দেশে গিয়ে কয়েক বছর তাদের মাঝে অবস্থান করেন এবং তাদেন সাথে কথোপকথন করেন  তাহলে আপনি নিজের মাতৃভাষার মত ইংরেজিও  অটোমেটিক শিখে যাবেন।  যেমনটা মাতৃভাষা  শেখার ক্ষেত্রে হয়েছে।  যেহেতু আপনি ইংরেজি মাতৃভাষা নয় এমন দেশে থাকেন  সেহেতু আপনাকে প্রথমে মুভির ক্যাজুয়াল ইংরেজির  বদলে ফরমাল ইংরেজি শুনতে হবে।  অন্যদিকে শুরুতে সাবটাইটেল পড়ে পড়ে মুভি দেখতে গিয়ে আপনি না পাবেন মুভির মজা না পাবেন ইংরেজির মজা। আপনি এক লাইন পড়তে পড়তেই তারা রকেটের মত কথা বলে শেষ করে ফেলবে।  দিন শেষে আপনি ৩ ঘন্টা মুভি দেখে অল্পকিছু ওয়ার্ড বুঝতে পারেন। বাকি সব মাথার উপর দিয়ে যাবে।

 

ফরমাল ইংরেজি কোথায় পাবেন?

ফরমাল ইংরেজি শেখার জন্য আমি প্রথমেই আমরিকান একসেন্ট পছন্দ করি।  কারণ হলো আপনি আমেরিকানদের প্রচুর পরিমাণ কোয়ালিটি কন্টেন্ট ফ্রিতে ইন্টারনেটে পাবেন।  আর আমেরিকান ইংরেজিতে ব্রিটিশদের মত এত বেশি নিয়ম কানুন নেই।  তাই আপনি সহজে বুঝতেও পারবেন।  এবার তাহলে আপনি কোথায় আমেরিকানদের কন্টেন্ট পাবেন এবং কিভাবে কাজে লাগাবেন   তা বলা যাক।

 

১ম ধাপ:

প্রথমে আপনি ইউটিউবে  TED Talks, TEDx Talks , TED Ed  এই তিনটা চ্যানেল থেকে কম করে হলেও ৫০ টা ভিডিও দেখবেন সাবটাইটেল দিয়ে।  চ্যানেল গুলোতে  প্রচুর পরিমাণে ভালো ভালো ভিডিও আছে। এখানে আলোচনা করা হয়নি এমন কোন টপিক নেই। এগুলো শুধু যে আপনার ইংরেজি লিসেনিং স্কিল বাড়াবে তা নয আপনার জীবন বদলানোর আইডিয়াও দিবে।  বিশ্বাস না হলে  এখনি কয়েকটি দেখে আসুন।  ভিডিও দেখার সময় টাইটেল পড়ে আপনার যেটা ভালো লাগবে  সেটা দেখবেন। তবে বক্তা যদি ভালো ইংরেজি না বলে বা টপিক আপনার পছন্দ না বা আপনার  খুব কঠিন লাগে তাহলে সেটা বাদ দিয়ে পরের টা তে চলে যান।  কোন ভিডিও তে যদি খুব দ্রুত কথা বলে তাহলে আপনি চাইলে ইউটিউট সেটিংস থেকে  স্পিড কমিয়ে দিতে পারেন।  প্রথম ধাপে  নিয়মিত সাবটাইটেল দিয়ে এবং  স্পিড কমিয়ে  ভিডিও দেখুন।  তাহলে সহজে বুঝবেন।

 

২য় ধাপ:

প্রথম ধাপ শেষ করার জন্য আপনাকে অভিনন্দন। এখন আপনি সাবটাইটেল ছাড়া অনেক কিছু বুঝেন।  এবার সাবটাইটেল ছাড়া ঐসব চ্যানেল থেকে আরো ৫০ টি ভিডিও দেখুন। চেষ্টা করুন সাবটাইটেল ছাড়াই বুঝতে।  বেশি দ্রুত কথা বললে স্পিড কমিয়ে দিন। কিছু শব্দ এরপরও না বুঝলে বাদ দিয়ে এগিয়ে যান।  সব বুঝতে হবে কথা নেই। খুব বেশি বিপদ না হলে এ ধাপে সাবটাইটেল ব্যবহার করবেন না।

 

৩য় ধাপ :

এতিদন লেগে থেকে এতদূর আসার জন্য আপনাকে অভিনন্দন।  এখন আপনি ইউটিউবের ইংরেজি ভাষার যে কোন ভিডিও,টিউটোরিয়াল সহজে বুঝবেন। জ্বি সাবটাইটেল ছাড়াই ১০০% বুঝবেন।  তাহলে এ ধাপে কি কাজ?  এখনো অনেক পথ বাকি!  চলুন শুরু করি।  এ ধাপের শুরুতে আপনি ইউটিউবে বিভিন্ন  শো দেখা শুরু করুন।  যেমন : Dr. Phil show, Ellen show, Oprah Winfrey show ইত্যাদি। তবে  শুধু ইউটিউবে দেখতে হবে কথা নেই। টিভি বা অন্য কোন সোশ্যাল  মিডিয়াতেও দেখতে পারেন।   এগুলোর সাথে সাথে আপনি আপনার পছন্দের যে কোন বিষয়ে ইউটিউবে ইংরেজি ভিডিও, টিউটোরিয়াল এসব দেখুন প্রচুর পরিমাণে। মোট কথা আপনার ইউটিউব বা সোশ্যাল মিডিয়া সার্ফিং এ সব ইংরেজি জিনিস দেখবেন। মোটামুটি  ৫০/৬০ টা  দেখুন।  এসবের সাথে সাথে TED Talks ও দেখতে পারেন।

 

৪র্থ ধাপ:

এখন অনেক দ্রুত ইংরেজি বললেও আপনি বুঝতে পারেন। আবারো অভিনন্দন আপনাকে! আপনি এখন ইংরেজি সংবাদ-পাঠ দেখতে প্রস্তুত।  ইউটিউব বা টিভিতে BBC, CNN, Fox News, NBC news ইত্যাদি চ্যানেল গুলো নিয়মিত দেখুন। না দেখলেও শুনুন। রেডিও শুনতে পারেন বিভিন্ন পডক্যাস্ট শুনুন, ডকোমেন্টারি দেখুন। ইউটিউবে বিভিন্ন টপিকের উপর ভিডিও দেখুন। প্রথমে একটু কষ্ট হবে। কিছুদিনের মধ্যেই আয়ত্তে এসে যাবে। আপনি এখন সব ধরনের ফরমাল ইংরেজি বুঝেন। একটু একটু বলতেও পারেন।

 

৫ম ধাপ:

আপনি অনেক দূর চলে এসেছেন।  এইধাপে আপনার সেই কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যের কাছাকাছি আপনি। প্রথমেই যেটা করতে নিষেধ করেছিলাম এখন আপনি সেটা করবেন। জ্বি, ঠিক ধরেছেন। আপনাকে মুভি দেখতে বলছি!  শুরুতে সিরিজ দেখে শুরু করতে পারেন।  Friends সিরিজ দিয়ে শুরু করুন।  যা ইংরেজি শেখার জন্য  বহুল জনপ্রিয়। ধীরে ধীরে কঠিন সিরিজ গুলো দেখা শুরু করুন।  কয়েকটা সিরিজ দেখার পর মুভি দেখা শুরু করুন।  এখন আপনি সাবটাইটেল ছাড়াই ফরমাল, ক্যাজুয়াল সব ইংরেজি বুঝবেন।  তাহলে দেরি না করে মুভি এবং ইংরেজির মজা দুটোই একসাথে নেওয়া শুরু করুন। রোমান্টিক, থ্রিলার, এ্যাডভেঞ্চার যেমন মুভি আপনার পছন্দ তেমন দেখুন।

 

৬ষ্ঠ ধাপ :

আপনি এখন প্রো হয়ে গেছেন। কি করতে হবে তা বলে না দিলেও হবে। তাপরও বলি।  এখন আপনি ইংরেজি বলা শুরু করুন!  আমেরিকান, ব্রিটিশ বিভিন্ন একসেন্ট এ বিভিন্ন শব্দের উচ্চারণ খেয়াল করুন। ধীরে ধীরে  স্পিকিং প্র্যাকটিস শুরু করুন। স্পিকিং নিয়ে বিস্তারিত অন্যদিন আলোচনা হবে। আজ এ পর্যন্ত ।

Let’s scrutinize past and present to see what’s waiting in the future.

Leave a comment

Share via
Copy link