বেশ অনেকদিন সময় নিয়ে বইটা পড়লাম। একটানা পড়ার মত বই বলবো না, অল্প অল্প করে – প্রতিদিন একটু একটু করে পড়েছি।
সত্যজিৎ রায় এবং তার জীবনকাল, পরিবেশ, নিত্যদিনের সুখ-দুঃখঃ বিজয়া রায় সবকিছু নিয়ে এসেছেন এই বইয়ে। একজন লেখক, একজন পরিচালক, ফেলুদার স্রষ্টা, একজন অস্কার-বিজয়ী এবং আরো অনেক কিছু- সবকিছু দুই মলাটের মধ্যে বেঁধে ফেলা যায় না – কখনোই না। কিন্তু সেই চেষ্টা করেছেন বিজয়া রায়, বেশ সফলভাবেই। প্রথম চল্লিশ-পঞ্চাশ পৃষ্ঠা পড়তে গিয়ে দুই-একবার বোরিং লেগেছিল, কিন্তু বাকি সাড়ে পাঁচশ পৃষ্ঠা পড়তে গিয়ে আর একবারও তা মনে হয়নি। বরং মনে হয়েছে বারবার, রায় পরিবারের অন্দরমহলের গল্প এই বই।
লেখায় একদম সহজ ভাষায় উঠে এসেছে ঐ সময়ের রাজনীতি, বিশিষ্ট শিল্পী, অভিনেতাসহ অসংখ্য মানুষের নাম। এসেছেন রবীন্দ্রনাথ, উত্তম কুমার, চিত্তরঞ্জন, কখনও বা ইন্দিরা গান্ধী। আধুনিকতা ব্যাপারটার সত্যিকার সংজ্ঞা পেলাম মনে হয় এই বইয়ে। আজ থেকে আরো অর্ধ-শতাব্দী আগের সমাজে সত্যিকারের আধুনিকতাকে কিভাবে হৃদয়ে ধারণ করতে হয় লিখেছেন বিজয়া রায়।
বেশ অনেকদিন ধরে এই বইটা আমার অভ্যাস হয়ে গিয়েছিল। আমি মনে হয় না কোনো বই এভাবে পড়েছি আগে কখনো। রায় পরিবারকে, মঙ্কুকে (বিজয়া রায়) কেন যেন নিজের খুব কাছের মনে হচ্ছিল এক সময়। একদম শৈশব থেকে শুরু করে মৃত্যু পর্যন্ত – একাধিক জীবনকাল, অসংখ্য স্মৃতির খণ্ডাংশ – সব আছে এই বইয়ে। শেষের দিকে ‘মানিক’ (সত্যজিৎ রায়ের)-এর অবস্থা যখন খারাপ হচ্ছিল – আমারও হুট করে চোখ ভিজে ভিজে আসছিল। জানিনা কেন।
সত্যজিৎ রায় খুব ভাগ্যবান ছিলেন, এমন একজনকে পেয়েছিলেন স্ত্রী হিসেবে। অনেকবার মনে হয়েছে, উনার জগদ্বিখ্যাত হবার পেছনে মঙ্কু’র অবদান এবং ত্যাগকে ছোট করে দেখার উপায় নেই কোনোভাবেই।
গত জন্মদিনে এক অকৃত্রিম বন্ধু গিফট করেছিল এই বই। ধন্যবাদ জানানোর ভাষা নেই আমার।



