এবারের ঈদটা সত্যিই ব্যতিক্রম। চাঁদরাত পর্যন্ত মার্কেটগুলোতে কেনাবেচার ধুম নেই, ঈদের দিন ঈদগাহে বিপুল মানুষের সমাগম হবে না, খাবারের দোকানগুলোতেও হয়তো থাকবে সুনসান নীরবতা। এমন ঈদ, যার কথা কেউ কোনোদিন কল্পনাও করেনি!
রোজার ঈদকে ঘিরে যে আমেজ থাকে প্রতিবছর, তা অনেকাংশেই ম্রিয়মাণ হয়ে গেছে করোনা প্রাদুর্ভাবের কারণে। তবে তাই বলে কি ঈদ আর ঈদ থাকবে না? মুদ্রার ওপিঠটাও একটু ভেবে দেখুন না! যেখানে বিশ্বজুড়ে লাখো মানুষ মারা যাচ্ছে, আপনি – আমি যে এখনো বেঁচে আছি, এটাই বা কম কীসে? কতো মানুষ না খেতে পেয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে, সেখানে দুবেলা খেয়ে- পরে তো আমাদের বেশ কেটে যাচ্ছে! এগুলো উপলব্ধিতে আনাও কখনো কখনো খুব গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়ায়। সংবেদনশীল, লকডাউনের এ সময়টাকে কাজে লাগিয়ে কীভাবে এবারের ঈদকে আনন্দঘন করে তুলবেন, তার জন্য রইল কিছু টোটকা।
১. দুশ্চিন্তা কমান, হাসিখুশি থাকুন:
বাসায় থেকে সবসময় ‘করোনা করোনা’ করে আপনি কিছু উদ্ধার করতে পারবেন কি? টিভিতে কোভিড- ১৯ সংক্রান্ত সব খুঁটিনাটি দেখে মাথা গরম করারও তাই দরকার নেই। পরিবারের সবাই মিলে কেবল প্রতিরোধ ব্যবস্থাগুলো যথাযথভাবে মেনে চলাই যথেষ্ট। ঈদ সামনে রেখে দুশ্চিন্তা কমাতে নাহয় বুক শেলফ থেকে পছন্দের বইটা বের করে আবার পাতা উল্টান, মন অন্যদিকে নিতে রিল্যাক্সিং মিউজিক শুনুন। অবসরে পরিবারের সদস্যদের সাথে হাসিমুখে বসে একটু হালকা চালের কথাবার্তা বলুন, দেখবেন ভালোই লাগবে।
২. কাজে সাহায্য করুন, দূরত্ব কমান:
লকডাউনের কারণে পরিবারের সদস্যরা দীর্ঘদিন একইসাথে ঘরে আবদ্ধ, বের হওয়ার সুযোগ নেই। যার কারণে প্রায়ই আমাদের মেজাজ খিটখিটে থাকে, ধৈর্য হারিয়ে ফেলি অল্পতেই। ফলশ্রুতিতে আপনজনদের সাথে কথায় কথায় মনোমালিন্য হয়, বিষণ্ণতা গ্রাস করে আরো। রাগ পুষে রেখে আমরা নিশ্চয়ই চাইবো না ঈদের সময়ে মা-বাবা, ভাই-বোন কারো কাছ থেকে পালিয়ে বেড়াতে! ঝামেলা হলেও মিটমাট করে ফেলুন আজই, নিজে গিয়ে আলাপ জমান। কেউ কোনো কাজ দিলে দায়িত্বের সাথে মন দিয়ে তাতে সহযোগিতা করুন।

- Save
চিত্র: পরিবারের সাথে গুণগত সময় কাটানো
Source: VectorStock.com
৩. ঈদের আমেজ নিয়ে আসি:
এবার নতুন কাপড় যদি নাও কিনতে পারেন লকডাউনে, সমস্যা নেই। আপনার প্রিয় জামাটিই নাহয় ধুয়ে, ইস্ত্রি করে নিন! ঈদের জন্য পরিবারের সকলে মিলে ঘরদোর পরিস্কার করতে পারেন, যে খুনসুটিটা তখন হবে তার মজাই কিন্তু আলাদা! তুলে রাখা নকশাদার বিছানার চাদর বিছিয়ে দিন বেডরুমে। ঘরে ছিটিয়ে দিতে পারেন সুগন্ধি, যা মনে আনবে প্রশান্তি। মেহেদি হাতের কাছে থাকলে তো কথাই নেই! ব্যস, চাঁদরাতে বসে পড়ুন সবাই গোল হয়ে। তালুতে একটা গোল্লা হলেও সবার হাতই রেঙে উঠুক। ঈদের দিন সালামির আনুষ্ঠানিকতায় আনন্দ বেড়ে যেতে পারে বহুগুণ ! এছাড়া ছোটরা ঈদকার্ড বানানোর ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে পারে।
৪. রান্না করি সবে মিলে:
রেস্টুরেন্টের যেসব মুখরোচক খাবার খুব মিস করছেন, এই ঈদে রান্নার টিউটোরিয়াল দেখে সেগুলো নিজেই ঘরে বানাতে চেষ্টা করুন তো! কে জানে, হয়তোবা প্রিয়জনদের চমকেও দিতে পারেন আপনার রান্নার দক্ষতা দিয়ে। রসুইঘরে কাজের সময় পরিবারের সদস্যরা স্বাচ্ছন্দ্য অনুযায়ী কাজ ভাগ করে নিতে পারে, এতে অনেক সহজ হবে সবকিছু। সবাই মিলে মজাদার রান্না করার মুহূর্তগুলো ক্যামেরাবন্দী করে শেয়ারও করতে পারেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে।

- Save
চিত্র: সবাই মিলে রান্নার আয়োজন
Source: shutterstock.com
৫. উপভোগ করুন অনুষ্ঠানমালা:
ঈদকে ঘিরে টিভি চ্যানেলগুলো ভিন্নধর্মী বিনোদনের পসরা সাজিয়ে বসে। ইউটিউবে পরে দেখে নেওয়ার থেকে এবার নাহয় পরিবারকে সাথে নিয়েই ঈদ আয়োজনগুলো লাইভ উপভোগ করুন ! চাইলে কোনো মুভি নামিয়ে বাসাতেই সিনেমা হলের কায়দায় স্ন্যাকস সহ সবাই মিলে বসে দেখতে পারেন।
৬. কথা বলুন প্রিয় মানুষদের সাথে:
ঈদের শুভ ক্ষণে সুবিধামতো সময়ে আত্মীয়-স্বজন সবার খবর নিন ফোন করে। বন্ধু-বান্ধবদের সাথে চাইলে ভিডিও চ্যাটও করতে পারেন ভালো ড্রেস পরে, সেজেগুজে! সকলকে ঈদের শুভেচ্ছা জানান। বাইরে একসাথে ঘোরাঘুরি হয়তো হচ্ছে না, তবে তথ্যপ্রযুক্তির এ যুগে এখন সবার সাথে কানেক্টেড থাকা কোনো ব্যাপারই না!
জীবন তো থেমে নেই। তাই সামান্য প্রচেষ্টাতেই দেখবেন এবারের ঈদ অবসরটিও আনন্দময় হয়ে উঠবে আপনার ও আপনার পরিবারের জন্য।
